বহু বছর আগে জাপানের রাজধানী টোকিওর সবচাইতে ব্যস্ততম স্টেশন শিনজুকুতে যখন টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হল, তখন দ্বারস্থ হলাম এক জাপানি ভদ্রলোকের। ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করলাম "টয়লেট কোথায়"। সবেমাত্র জাপানে জীবন যাপন শুরু করেছি, তাই জাপানি ভাষায় দক্ষতা নেই বললেই চলে। জাপানি ভদ্রলোক বিনয়ের সাথে হাতের ইশারায় বোঝালেন তিনি আমার ভাষা বুঝতে পারছেন না। টয়লেট শব্দটিও তার কাছে বোধগম্য হয়নি। কারনটা হল জাপানিরা বিদেশি শব্দগুলোকে অবিকল উচ্চারণ না করে, নিজেদের মত করে উচ্চারণ করে। টয়লেটকে ওরা তইরে বা তইরেত্ত বলে। তাই হাজার বার টয়লেট বললেও তা ওদের কাছে বোধগম্য হবে না। তাই আপনি যদি নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দেন, তাহলে তারা আপনার জন্মভূমিটিকে শনাক্ত করতে পারবে না, পারার কথাও নয়। পৃথিবীর মানচিত্রে জাপানি ভাষায় বাংলাদেশ বলে কোন দেশ নেই, আছে বানগুরাদেশু। যার ফলে জাপানে জাপানে ভ্রমণ কিংবা বসবাসের ক্ষেত্রে জাপানি ভাষাটা জানাটা খুব প্রয়োজনীয়।

ঘরে বসে জাপানি ভাষা শেখাটা আদৌ কি সম্ভব!

টুকটাক কথা বলার মত সক্ষমতা অর্জন করার জন্য, খুব একটা খাটুনির প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। প্রয়োজন শুধুমাত্র আগ্রহের। তাহলে অনলাইনেই সহজেই কাজ চালানোর মত জাপানি ভাষা রপ্ত করা সম্ভব। আপনার জাপানি স্কুলে দৌড়ানোর কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। সাইটটিকে ধীরে ধীরে সমৃদ্ধশালী করা হবে, যাতে করে সকলে আগ্রহের সাথে জাপানি ভাষা শিখতে পারেন।

বাংলাদেশেও জাপানি ভাষা জানার প্রয়োজন আছে কি!

জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। নতুন নতুন জাপানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসছে ব্যবসার খাতিরে। বাংলাদেশে সরকার জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য স্পেশাল ইকোনোমিক জোনেরও ব্যবস্থা করেছে নারায়নগন্জের আড়াইহাজারে। এছাড়াও জাপান সরকারের সহায়তার যে সকল প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে, তাতে অংশগ্রহন করছে বেশ কয়টি জাপানি প্রতিষ্ঠান। কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংগালী কর্মীদের অনেকেই ভাষাটি রপ্ত করে ফেলেছেন খুব কম সময়ের মধ্যেই। কাজের খাতিরেই। কেননা অনেক জাপানি একবারেই ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। তাই তাদের সাথে কাজ করতে চাইলে আপনাকে জাপানি ভাষা শিখতে হবে।